উন্নত মানের ইলেকট্রনিক চুলা

নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রান্নার ইলেকট্রনিক চুলার জুড়ি নেই। এ ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত দুই ধরণের চুলা দেখতে পাই। যথা : ১.ইন্ডাকশন কুকার  ২.ইনফ্রারেড কুকার

ইন্ডাকশন কুকার নাকি ইনফ্রারেড কুকার? জেনে নিন কোনটা আপনার জন্য – Induction or infrared cooker?

উন্নত মানের ইলেকট্রনিক চুলা

চলুন প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ইন্ডাকশন এবং ইনফ্রারেড কুকারের বেসিক তথ্য গুলি।

ইন্ডাকশন কুকার

ইন্ডাকশন কুকারের মেকানিজমটা একটু ভিন্ন ধরনের। এই কুকারে সরাসরি তাপ উৎপন্ন হয়ে পাত্রের গায়ে লাগেনা, পাত্র চুম্বক রশ্মির মাধ্যমে কুকারের ভেতর থেকে তাপ টেনে নেয়। যেহেতু চুম্বকরশ্মির মাধ্যমে পাত্র তাপ টেনে নিয়ে গরম হয় সেহেতু সব পাত্র ইন্ডাকশন কুকারে ব্যবহার করা যায়না। যেসব পাত্র চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত হয় সেসব পাত্রই কেবলমাত্র ইন্ডাকশন কুকারে ব্যবহার করা যায়। যেমন স্টিলের পাত্র, লোহার পাত্র & বিভিন্ন ব্র‍্যান্ডের ইন্ডাকশনের জন্য নির্মিত পাত্র সমুহ ব্যবহার করা যায়। 

ইনফ্রারেড কুকার

ইনফ্রারেড কুকারের মেকানিজম সাধারন যেকোন চুলা বা কুকারের মতই। এক্ষেত্রে ইনফ্রারেড কুকারের হিটিং কয়েলে তাপ উৎপন্ন হয় এবং কয়েলের উপরে বসানো পাত্র সেই তাপে গরম হয়। এক্ষেত্রে বিশেষ কোন পাত্রের দরকার নেই। যেসব পাত্র দিয়ে আমরা সাধারন চুলায় বা গ্যাসের চুলায় রান্না করি সেসব পাত্র দিয়েই ইনফ্রারেড কুকারে রান্না করা যায়। 

পাত্র

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে ইন্ডাকশন কুকারে কেবল মাত্র সেসব পাত্রই ব্যবহার করা যাবে যেসব পাত্র চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত হয়। অপরপক্ষে, ইনফ্রারেড কুকারে  যেকোন পাত্রই ব্যবহার করা যাবে।

রান্না করতে কেমন সময় লাগে

রান্না করার জন্যে ইনফ্রারেড কুকারে বেশি সময় লাগে। ইন্ডাকশন কুকারে যে রান্না হবে বিশ মিনিটে একই রান্না ইনফ্রারেড কুকারে করতে হলে প্রায় ত্রিশ মিনিট সময় লাগবে।

কোন কুকার বেশি বিপজ্জনক  

ইনফ্রারেড কুকার বেশি বিপজ্জনক। এক্ষেত্রে রান্না করার সময় কুকার থেকে তাপ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে রান্নার সময় দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে ও হাতে ছ্যাকা খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর বাসায় বাচ্চা কাচ্চা থাকলে ইনফ্রারেড কুকার বেশ বিপজ্জনক, খেয়াল রাখতে হবে কুকার যেন বাচ্চার নাগালের বাইরে থাকে। আর ইনফ্রারেড কুকারে অধিক তাপমাত্রায় রান্না করলে এর উপরের কাচটি ফেটে যায়। এদিক দিয়ে ইন্ডাকশন কুকার বেশ নিরাপদ। পাত্র ছাড়া আর কোথাও তাপ ছড়াবেনা, কুকারের কাচ ফাটার সম্ভাবনাও অনেক অনেক কম।

কোনটা কিনবেন?

উপরে সবকিছুই মোটামুটি বর্ণনা করা হয়েছে, সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা করে প্রয়োজন মত কিনে ফেলুন। যারা যেকোন পাত্র ব্যবহার করতে চান + টুকিটাকি কিছু পোড়াতে চান তাদের জন্য ইনফ্রারেড কেনাই ভাল। বাকিদের জন্য ইন্ডাকশন কেনাই ভাল।

গ্যাসের চুলার বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী ম্যাজিক চুলা

চাহিদা আর যোগানের অসামঞ্জস্যতায় তৈরি হয় নানান সমস্যা। এ ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া যেতে পারে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা। গ্যাস সঙ্কটের কথা ইদানিং বেশ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। ইলেকট্রিক চুলা হতে পারে গ্যাসের চুলার অন্যতম বিকল্প। কিন্তু এই ধরনের চুলার ব্যবহারও কিছুটা শহরকেন্দ্রিক।

এক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের দিকে ম্যাজিক চুলা সবচেয়ে ভাল বিকল্প হতে পারে। ম্যাজিক চুলা হচ্ছে সিমেন্ট দিয়ে তৈরিকৃত চুলা যা একপ্রকার সস্তা জ্বালানি দিয়ে ব্যবহার করা হয়। এই চুলা যেমন জ্বালানি এবং অর্থ সাশ্রয়ী তেমনি পরিবেশবান্ধবও। খুব অল্প খরচে যে কেউ এই চুলা তৈরি করতে পারে।

অন্য যেকোন চুলার মতো এই চুলায় ধোঁয়া হয় না। তাই রান্নার সময় কোন অস্বস্তি তৈরী করেনা। মাত্র ৪৫ টাকার তুষ দিয়ে তৈরি, এক ধরনের লাকড়ি প্রয়োজন হয় এর জ্বালানি হিসেবে।

ম্যাজিক চুলা তৈরির কৌশল খুব সহজ বিধায় পরস্পরের কাছ থেকে শিখে নেয়া যায়। তাই যে কেউ চাইলেই কোন বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়াই ম্যাজিক চুলা তৈরী করতে পারবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এর উপকরণ খুব সহজেই স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়। লাকড়ি চুলা হলেও এই চুলায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ। চারিখোলের (লাকড়ি) পরিমান কমিয়ে ও বাড়িয়ে আগুন কমানো বাড়ানো যাবে। এই সব সুবিধার জন্যই ম্যাজিক চুলা স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য হতে পারে আশীর্বাদ স্বরূপ।

ম্যাজিক চুলা তৈরিতে যা যা লাগবে-
# আড়াই কেজি চিকন লোহার রড়
# লোহার নেট পরিমাণমত
# তিনফুট বা আড়াই ফুট উচ্চতার প্লাস্টিক পাইপ
# সমউচ্চতার চিকন একটি কলা গাছ যেটি নল হিসেবে ব্যবহার করা হবে
# কিছু ইটের খোয়া
# দুই কেজি সিমেন্ট

তৈরির পদ্ধতি
চুলাটি তৈরির জন্য প্রথমে খাঁচা তৈরি করে ইট, বালি সিমেন্ট একসঙ্গে মিশিয়ে এর ভিতর ঢেলে দিতে হবে। শুকনো বা জমাট বাঁধার পর কলার গাছের টুকরোটি বের করে ফেলে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে ম্যাজিক চুলা। এটি ইচ্ছামত যেকোন জায়গায় বসিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায়। একটি বড় সাইজের ম্যাজিক চুলা তৈরিতে করতে ৫০০-৬০০ টাকার মত খরচ হয়।

ম্যাজিক চুলা তৈরি যেমন সহজ তেমনি এর আছে নানা সুবিধা। সাশ্রয়ী হওয়ায় চায়ের দোকানগুলোতেই এর  চুলার ঠায় বেশী হলেও এই চুলা ব্যবহার করে যে কেউ খুব সহজে সল্প অর্থে তার জ্বালানির চাহিদা মিটাতে পারবে।

উন্নত মানের ইলেকট্রনিক চুলা