How to relieve neck pain – ঘাড়ের ব্যথা দূর করার উপায়

How to relieve neck pain – ঘাড়ের ব্যথা দূর করার উপায়
How to relieve neck pain
  • Post category:HEALTH TIPS
  • Post last modified:31/12/2020

How to relieve neck pain – ঘাড় ব্যথা একটি সাধারণ অভিযোগ। দুর্বল দেহভঙ্গির কারণে ঘাড়ের মাংসপেশিগুলো শক্ত হয়ে যায়। যাঁরা ঘাড় বাঁকিয়ে কম্পিউটারে কাজ করেন কিংবা লেখার টেবিলে কুঁজো হয়ে বসেন, তাঁদের এ সমস্যা বেশি হয়। এ ছাড়া অস্টিও আর্থ্রাইটিস ঘাড় ব্যথার একটি সাধারণ কারণ।

How to relieve neck pain

খুব কম ক্ষেত্রে ঘাড় ব্যথা মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে। যদি ঘাড় ব্যথার সঙ্গে বাহু কিংবা হাতে অবশ ভাব দেখা দেয় কিংবা হাতের শক্তি কমে যায় অথবা কাঁধ ব্যথা করে কিংবা ব্যথা হাতের দিকে নামে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

উপসর্গ :

ঘাড় ব্যথায় সাধারণত নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো দেখা দেয়—

► মাথা দীর্ঘ সময় ধরে একভাবে রাখলে, যেমন ড্রাইভিং করলে কিংবা কম্পিউটারে কাজ করলে ঘাড় ব্যথা বেড়ে যায়।

► মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায় ও সংকুচিত হয়।

► মাথা নাড়ানোর ক্ষমতা লোপ পায়।

► মাথা ব্যথা করে ইত্যাদি।

কখন ডাক্তার দেখাবেন:

► ঘরোয়া চিকিৎসায় বেশির ভাগ ঘাড় ব্যথা কমে যায়। যদি ব্যথা না কমে কিংবা অবস্থার উন্নতি না হয়, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

Read Also:  সাদা চালের ভাতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

► ঘাড় ব্যথাটা আঘাতের কারণে হয়, যেমন গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট, ড্রাইভিং কিংবা ওপর থেকে পড়ে যাওয়া—তাহলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

► যদি ঘাড় ব্যথা তীব্র হয়, ব্যথা না কমে একটানা কয়েক দিন স্থায়ী থাকে, হাতে বা পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে, ঘাড় ব্যথা, সঙ্গে মাথা ব্যথা, অবশ ভাব, দুর্বলতা কিংবা ঝিনঝিন অনুভূতি থাকে, তাহলেও দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

ঘাড় ব্যথার কারণ:

মাংসপেশির টান : ঘাড়ের অতিরিক্ত ব্যবহার, যেমন বেশ কয়েক ঘণ্টা কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে ঘাড় বাঁকা করে কাজ করা। এতে ঘাড়ের মাংসপেশিতে টান পড়ে। অনেক সময় ছোট জিনিস থেকেও ঘাড়ের পেশিতে টান পড়তে পারে, যেমন বিছানায় শুয়ে বই পড়া।

অস্থিসন্ধি ক্ষয় হওয়া : শরীরের অন্যান্য জয়েন্টের মতো ঘাড়ের জয়েন্টগুলোও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয় হয়ে যায়। অস্টিও আর্থ্রাইটিস দুই কশেরুকার মাঝখানের কার্টিলেজ বা তরুণাস্থিকে ক্ষয় করে। এরপর সেখানে ছোট ছোট হাড়ের সৃষ্টি হয়, যা জয়েন্টের নড়াচড়ায় বাধা দেয় এবং ব্যথা করে।

Read Also:  ভিটামিন ডি এর ফলাফল

স্নায়ুতে চাপ লাগা : ঘাড়ের স্থানচ্যুত ডিস্ক বা কশেরুকার মধ্যকার ছোট হাড়ের টুকরাগুলো স্পাইনাল কর্ড থেকে বেরিয়ে আসা নার্ভের শাখা-প্রশাখার ওপর চাপ দেয়, ফলে ঘাড় ব্যথা হয়।

আঘাত : কোনো গাড়িতে থাকা অবস্থায় পেছন থেকে যদি অন্য কোনো গাড়ি আঘাত করে, তাহলে মাথা পেছন দিকে ঝাঁকি খায়, এতে ঘাড়ের নরম টিস্যুগুলোতে টান লাগে ও ব্যথা হয়।

কিছু রোগ : কিছু রোগ ঘাড় ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, মেনিনজাইটিস অথবা ক্যান্সার।

প্রতিরোধে করণীয়:

বেশির ভাগ ঘাড় ব্যথা দুর্বল অঙ্গভঙ্গি ও বয়সসম্পর্কিত হাড় ক্ষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঘাড় ব্যথা প্রতিরোধ করতে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করুন।

ঘাড় সোজা রাখুন : যখন দাঁড়াবেন কিংবা বসবেন, আপনার দুই কাঁধ যেন হিপ বরাবর সোজা থাকে। আর আপনার কান দুটি যেন সরাসরি আপনার দুই কাঁধের ওপর থাকে।

মাঝেমধ্যে বিরতি নিন : যদি দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করেন, অথবা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করেন, তাহলে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়াবেন, হাঁটবেন এবং ঘাড় প্রসারিত করবেন।

Read Also:  কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্য পরিচর্যা

ডেস্ক, চেয়ার ও কম্পিউটার সমন্বয় করুন : এ ক্ষেত্রে মনিটর চোখ বরাবর থাকবে। দুই হাঁটু হিপের কিছুটা নিচে থাকবে। চেয়ারে আর্মরেস্ট বা হাতল ব্যবহার করা যেতে পারে।

কান ও কাঁধের মাঝে ফোন রাখা বন্ধ করা : খেয়াল রাখুন, ফোনে কথা বলার সময় যেন সেটি কান ও কাঁধের মাঝে ঠেসে না থাকে। প্রয়োজনে হেডসেট অথবা স্পিকার ফোন ব্যবহার করুন।

ধূমপান ছাড়ুন : যদি ধূমপায়ী হন, আজই ধূমপান ত্যাগ করুন। ধূমপান কাঁধে ব্যথার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কাঁধে ব্যাগ বহন নয় : কাঁধে ফিতাওয়ালা ব্যাগ বহন করবেন না। ব্যাগের ওজনে ঘাড়ে টান পড়ে ও ব্যথা বাড়ে।

ভালো ভঙ্গিতে ঘুমান : এমনভাবে ঘুমাবেন, যাতে মাথা ও ঘাড় শরীরের একই সারিতে থাকে। ঘাড়ের নিচে ছোট একটি বালিশ দিন। চেষ্টা করুন, ঊরুর নিচে একটি বালিশ দিয়ে ঊরু একটু উঁচুতে রেখে চিত হয়ে ঘুমাতে। এতে পিঠের মাংসপেশিগুলো চ্যাপ্টা থাকবে।

Leave a Comment