মেসির ৪ গোলে ইতিহাস গড়ল ইন্টার মিয়ামি

মেসির ৪ গোলে ইতিহাস গড়ল ইন্টার মিয়ামি

মেসির ৪ গোলে ইতিহাস গড়ল ইন্টার মিয়ামি

‘লিওনেল মেসি যেন বিস্ময়বোধক চিহ্নেরই অন্য নাম’ — হ্যাটট্রিকের পরই ধারাভাষ্যকার বলে উঠেছিলেন কথাটা। তবে মেসি সেখানে থেমে গেলে কথাটা যেন খানিকটা প্যারাডক্সই হয়ে যেত, অনুমিত কাজটাই যদি করবেন, তাহলে এখানে বিস্ময় আসছে কোত্থেকে? মেসি এরপর আরও এক গোল করলেন ফ্রি কিক থেকে, রাতের শুরুটা করেছিলেন এক সফল ফ্রি কিক দিয়ে, শেষটাও করলেন আরেক ফ্রি কিকে। মাঝে আরও দুটো গোল করলেন, লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে আরও একটা করালেন। 

Lionel Messi

মেসির এমন পারফর্ম্যান্সের রাতে মিয়ামি পেয়েছে ইতিহাস গড়া এক জয়। ৭-১ গোলে হারিয়েছে সিএফ মন্ট্রিয়লকে। তাতে মিয়ামি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়টা তুলে নিল। টানা ৫ ম্যাচে জিততে না পারার ধারাটাও শেষ করল মেসির দল।

তবে ম্যাচ শুরুর আগে দলের অবস্থা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল। কারণ দলের কোনো স্থায়ী কোচ ছিল না। তবে মেসি মিয়ামির সে কঠিন কাজটাকেই কী সহজ করে দিলেন!

মেসি প্রথম গোল করেন ৪০ মিনিটে। একটি ফ্রি-কিক গোলরক্ষকের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। এরপর ৫২ মিনিটে তিনি একাই বল নিয়ে দৌড়ে গিয়ে দ্বিতীয় গোল করেন। এরপর তিনি লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে একটি গোল করান। খেলা শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে মেসি বল আলতো করে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান। এতে তার হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়।

খেলা তখনো শেষ হয়নি। ইনজুরি সময়ে মেসি আরেকটি ফ্রি-কিক নেন। বল গিয়ে জালের কোণায় লাগে। এই নিয়ে চতুর্থ গোলও করেন তিনি।

মেসির ক্যারিয়ারে এটি অষ্টমবার, যখন তিনি এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করলেন। মিয়ামিতে আসার পর এটাই তার প্রথম চার গোলের ম্যাচ। এর আগে তিনি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বার্সেলোনার হয়ে চার গোল করেছিলেন। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল স্পেনের ক্লাব এইবার।

এই ম্যাচের পর মেসি এমএলএসের গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। তিনি ১৯ ম্যাচে ১৮ গোল করেছেন। তার পরের অবস্থানে আছেন এফসি ডালাসের পিটার মুসা।

জুলাইয়ের ২৫ তারিখের পর এমএলএসে এটাই মিয়ামির প্রথম জয়। এর আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে তারা জিততে পারেনি। এর মধ্যে লিগস কাপের ম্যাচও ছিল।

এই ম্যাচে মিয়ামির অন্তর্বর্তী কোচ গিয়ের্মো ওয়োস মাঠের পাশে থাকতে পারেননি। তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মিয়ামির নতুন স্থায়ী কোচের নাম এই সপ্তাহেই ঘোষণা করা হয়েছে। তার নাম ক্রিস্টিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেজ। তবে কাজের অনুমতিপত্র না পাওয়ায় তিনি এখনো দায়িত্ব নিতে পারেননি।

সহকারী কোচ রাফায়েল পেরেজ দলকে মাঠের পাশ থেকে পরিচালনা করেছেন। ব্রাজিলের তারকা কাসেমিরো এই ম্যাচে প্রথম গোল করেন। গ্রীষ্মে মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর এটাই তার প্রথম গোল।

মিয়ামির আরেকটি গোল আসে ৮৯ মিনিটে। এই গোল করেন ১৮ বছর বয়সী আলেকজান্ডার শ।

এই জয়ের পর ইস্টার্ন কনফারেন্সের টেবিলে মিয়ামি দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে। শীর্ষে আছে ন্যাশভিল এসসি। অন্যদিকে মন্ট্রিয়ল আছে ১৪ নম্বরে। তাদের অবস্থান তালিকার প্রায় শেষের দিকে।