কলেজ ভর্তি আবেদন

কলেজ ভর্তি আবেদন

কলেজ ভর্তি আবেদন

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে। চলবে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু হবে। ভর্তি ওয়েবসাইট এ দেওয়া পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

XI Admission

ভর্তির যোগ্যতা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে। আবেদন ফি ২২০ টাকা।

আবেদন করার জন্য যা যা লাগবে—

আবেদন শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি তথ্য হাতের কাছে রাখা ভালো। যেমন: এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের বছর, নিজের সচল মোবাইল নম্বর, পছন্দের কলেজগুলোর তালিকা, যে বিভাগে ভর্তি হতে চান সেই বিভাগের তথ্য। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য ও পরীক্ষার তথ্য ভুল দেওয়া হয়েছে কি না, সাবমিট করার আগে ভালোভাবে মিলিয়ে নিতে হবে।

ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আসনের ৭ শতাংশ কোটায় রাখা হয়েছে। কলেজগুলোর মোট আসনের বাকি ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ—

২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তিসংক্রান্ত পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবে। ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আটটা পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নে ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আটটা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আটটায়। ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চয়নের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আটটা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সব শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।

৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে, ৭ শতাংশ কোটা—

নীতিমালা অনুযায়ী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র–কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর–সংস্থার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি দেখাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাই করে ভর্তি সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র–কন্যা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট আসন খালি রাখা যাবে না। মেধাতালিকা থেকে ওই আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কোটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দপ্তরপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে সংশ্লিষ্ট কোটার প্রার্থীদের মধ্যেই মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।

জিপিএ সমান হলে যেভাবে মেধাক্রম দেওয়া হবে

সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে। তা ছাড়া বিভিন্ন সালের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।

বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বরপ্রাপ্তদের মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে। যদি প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন না হয়, তবে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।

এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ একই হলে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন না হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।

শিক্ষা ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনকারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

গত ৩১ আগস্ট ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে অনলাইন আবেদনে মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষা কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পৃথক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের আবেদনের ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়েছে। এ কোটায় আবেদন করার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা থাকতে হবে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আবেদন করলে সিলেকশন পেলেও কলেজে ভর্তির অযোগ্য হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা–২০২৬–এর উপধারা ৩.২ অনুযায়ী ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন আবেদনে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা থাকতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা কোটার যোগ্যতা: এ কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হতে হবে।

এ কোটায় সিলেকশন হওয়া শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে এ কোটার সঠিক প্রমাণক জমা দিতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে না। অতএব যেসব শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটার বর্ণিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও (যেমন মুক্তিযোদ্ধার নাতি বা নাতনি) আবেদন করবে, তারা সিলেকশন পেলেও কলেজে ভর্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।

এদিকে অনলাইন আবেদনে ইকিউ–১, ইকিউ–২ (এডুকেশন কোটা–১, ২) কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়েছে। এসব কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা থাকতে হবে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আবেদন করলে সিলেকশন পেলেও কলেজে ভর্তির অযোগ্য হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা–২০২৬’–এর উপধারা ৩.২ অনুযায়ী ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন আবেদনে ইকিউ–১, ইকিউ–২ (এডুকেশন কোটা–১, ২) কোটার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা থাকতে হবে।

ইকিউ–১ (এডুকেশন কোটা–১)–এর যোগ্যতা:

এ কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সন্তান হতে হবে।

ইকিউ–২ (এডুকেশন কোটা–২)–এর যোগ্যতা:

এ কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ২৮টি (কপি সংযুক্ত) দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সন্তান হতে হবে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি স্কুল, সরকারি কলেজ, সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সরকারি শিক্ষা অফিসগুলোয় কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানের ক্ষেত্রে বর্ণিত কোটার সুবিধা প্রযোজ্য হবে। অতএব যেসব শিক্ষার্থী ইকিউ–১ ও ইকিউ–২ কোটার বর্ণিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আবেদন করবে, তারা সিলেকশন পেলেও কলেজে ভর্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।

*একাদশে ভর্তি নীতিমালা দেখুন এখানে

*একাদশে ভর্তি নির্দেশিকা দেখুন এখানে