• Post category:Health Tips
  • Post last modified:23/11/2020

শীতে শিশুর যত্নে করণীয়

শীত এসেগেছে। খুব প্রবলভাবে ঠান্ডা না পড়লেও ইতিমধ্যেই হালকা শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের প্রায় সবখানেই এখন হালকা শীতের দেখা মিলছে। তবে এই যে সিজিন চেঞ্জের মুহুর্তটাই খুবই কঠিন। এই সময় দেখা দেয় নানা রকম উপসর্গ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সময়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তাই শিশুদের জন্য শীতের আগমন মানেই মায়েদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যাওয়া। তাই তাদের প্রতি একটু বাড়তি যত্নই নিতে হয়। শীতে জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি সাধারণ ঘটনা। নিজেদের প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে বাসার আদুরে শিশুটির প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়া চাই। শীতে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় পরিবেশে শুষ্কভাব বিরাজ করে। তাই শিশুদের সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য নিতে হবে অতিরিক্ত যত্ন। ত্বক যেন শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ না হয়, এজন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।

Baby care in winter

শীতে শিশুদের নিউমোনিয়া, সর্দিকাশি এ ধরনের সমস্যা খুবই সাধারণ ব্যাপার। এজন্য শীতের প্রকোপ থেকে শিশুকে রক্ষা করতে বাবা মাকে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে।

শীত প্রতিরোধের উপযুক্ত পোশাক
শীত থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখার প্রথম ও প্রধান করণীয় হল শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করতে পারে এমন কাপড় পরানো। প্রয়োজনে একাধিক কাপড় পরানো। শিশুদের শরীরে শীতের অনুভূতি বেশি থাকে তাই শুধু গরম পোশাক পরালেই চলবে না; যাতে ঠাণ্ডা লেগে না যায় তার জন্য শীতের তীব্রতা অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করুন।

সঠিক নিয়মে স্নান করানো.

শীতে শিশুদের স্নান করানো নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। কি-জানি কখন অসুস্থ হয়ে যাবে। এমন ভয়ে অনেকেই স্নান করানো কমিয়ে দেন। তবে শিশুদের শীতকালে বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শিশুর শরীরের তৈলাক্ত ময়লা দূর করতে নিয়মিত স্নান করানো জরুরি। স্নান করানোর সময় বাচ্চাদের উপযোগী সাবান ব্যবহার করতে হবে। গোসলের জন্য কুসুম গরম জল ব্যবহার করা উচিত্‍। অধিক সময় ধরে শিশুকে স্নান করানো যাবে না।

স্নানের শেষে শিশুর শরীর যেন অতিরিক্ত জল শোষণ করতে না পারে এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গোসল শেষে দ্রুত শরীর ও মাথা পরিষ্কার গামছা অথবা তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে স্নানের শেষে কিছুক্ষণের জন্য শিশুকে হালকা রোদে বসিয়ে রাখুন। এতে শিশু আরাম অনুভব করবে।

শীতের খাবার..

শিশুর শীতের খাবার সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া চাই। শিশু যেন অতিরিক্ত ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। লেবু, কমলা, মাল্টা, আমলকি এসব ফল খাওয়ানো ভালো। তবে যেসব শিশু চিবিয়ে খেতে পারে না, তাদেরকে ফলের রস করে খাওয়াতে পারেন।

ঠাণ্ডা লেগে গেলে.

সতর্ক থাকা বা যত্ন নেবার পরেও অনেক সময় শিশুদের ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। শিশুর নাক বন্ধ হয়ে গেলে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। শিশু অসহ্য বোধ করতে পারে। এজন্য চিকিত্‍সকের পরামর্শে ন্যাজাল ড্রপ ব্যবহার করুন। ঠাণ্ডা লেগে কাশি, শ্বাসকষ্ট কিংবা বুকের ভেতর গড়গড় আওয়াজ অথবা শিশু শ্বাস নিতে গিয়ে কষ্ট অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিন।

এছাড়াও যা যা করবেন..

শীতে শিশুর সর্দি-কাশির বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত। এগুলোয় সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো দরকার পড়ে না। তাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার করলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। ঘরোয়া চিকিত্‍সাতেই অধিকাংশ সর্দি-জ্বর ভালো হয়। এ সময় মায়েদের উষ্ণ জল দিয়ে শিশুদের স্নান করাতে হবে। হালকা ফ্যান ছেড়ে ঘুমালেও কোনো ক্ষতি নেই। নাক যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে লবণ জলের ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া বাজারে নরসল ড্রপ কিনতে পাওয়া যায়। পাতলা কাপড় বা কটন বাডে দুই ফোঁটা নরসল ড্রপ লাগিয়ে নাক পরিষ্কার করা যেতে পারে। যদি কাশি হয় তবে ওষুধ ব্যবহার না করে ঘরেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে।

যেমন-আধা কাপ লাল চায়ের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়ানো যায়। অথবা আধা কাপ গরম জলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধু বা তুলসী পাতার রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়ানো যায়। আদা কুচি করে বা আদা-চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়েও শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। জ্বর ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়ানো উচিত। এছাড়া তোয়ালে ভিজিয়ে বারবার শিশুর গা মুছিয়ে দিতে হবে। তবে বাচ্চার নিউমোনিয়ার ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর শ্বাসনালি অতি সংবেদনশীল। তাই শীতে হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে। এই রোগ প্রতিরোধে বাসায়, শোবার ঘরে কার্পেট রাখবেন না। লোমযুক্ত চাদর, কম্বল ব্যবহার করবেন না। হাঁপানি নিরাময়ে সালবিউটামল সিরাপ এক বছরের নিচের জন্য আধা চামচ আর এক বছর থেকে পাঁচ বছরের জন্য এক চামচ করে দিনে তিনবার খাওয়াতে পারেন।

শিশুর ত্বক ও শ্বাসতন্ত্র নাজুক ও অপরিণত। তাই শিশু তাপ ধরে রাখতে পারে না, সহজে ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এ সময় তাই তাকে পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরাতে হবে। তবে এর মানে এই নয় যে, শিশুকে নাক-মুখ বন্ধ করে, শক্ত করে মুড়িয়ে দিতে হবে। শীতের কাপড় যেন আরামদায়ক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শীতে ঘাম কম হওয়ার কারণে শিশুর প্রস্রাব বেশি হয়। এ জন্য নবজাতকের কাঁথা ভিজে যাচ্ছে কি না বা একটু বড় শিশুর প্যান্ট ভিজছে কি না তা সব সময় খেয়াল রাখতে হবে। অনেকে বেশি প্রস্রাব করছে দেখে শিশুকে বুকের দুধ ও তরল খাবার কমিয়ে দেন। এটি খুবই মারাত্মক একটি পদক্ষেপ, যা কখনোই করা উচিত নয়। এতে কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। শীতে সোনামণিদের কোমল ত্বকের যত্নে অবশ্যই ভালো মানের লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। শুধু মুখে নয়, সারা শরীরে। শিশুকে পর্যাপ্ত সময় রোদে রাখতেও ভুলবেন না। শীতে স্নান করতে কিন্তু বাধা নেই। কুসুম গরম জল দিয়ে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে পারেন। অনেকে স্নানের আগে সরষের তেল মাখিয়ে দেন। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, অবশ্য ক্ষতিও নেই। তবে স্নান করানোর সময় কানে যাতে জল না ঢোকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর শরীর ভালোভাবে মুছতে ভুলবেন না।

শিশুকে নিয়ে বেশি ভয় থেকে কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠদের পরামর্শে শীতে অনেক মা খাওয়া-দাওয়া ও জীবনাচরণে খুবই কঠোরতা অবলম্বন করেন। বিশেষ করে নবজাতকের মায়েরা এসব বেশি করেন। অনেকে নিজের সর্দি-কাশি হলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দেন। গ্রামাঞ্চলের মতো শহরেও এসব ঘটনা বিরল নয়। এসবে শিশুর তো লাভ হয়ই না বরং ক্ষতি হতে পারে। আসলে বিভিন্ন ঋতুর মতো শীতেও শিশুর নানা রোগ হতে পারে, এটা আলাদা বিশেষ কোনো ব্যাপার নয়। এ জন্য দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

রাতে ঘুমানোর আগে গ্লিসারিনের সঙ্গে জল মিশিয়ে শিশুর হাত-পায়ে লাগানো যেতে পারে। শীতে বাচ্চাদের মোটা সুতি কাপড় পরানো যেতে পারে। আঁটসাঁট বা উলের কাপড় পরালে তাদের শরীর ঘেমে ঘামাচি উঠতে পারে। এক্ষেত্রে ফ্লানেলের জামা পরানো যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় শিশুর গলায় ও মাথায় পাতলা কাপড় পেঁচিয়ে রাখলে ভালো হয়। রাতে টুপি বা মোজা পরে শিশুকে কখনোই ঘুমাতে দেয়া উচিত নয়। কারণ, শিশু রাতে ঘুমানোর সময় বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। ভেজা বিছানায় শুয়ে থাকলে তার ঠাণ্ডা লাগার ভয় থাকে বেশি। তাই এ বিষয়ে বাবা-মাকে অবশ্যই বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

শীতের কিছু সাধারণ সমস্যা যেমন জ্বর, সর্দি, কাশি, হাঁপানি বেড়ে যায়। এজন্য ঘাবড়ে না গিয়ে চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিন। এসময়ে শিশু যেন মেঝেতে খালি পায়ে না হাঁটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুর জন্য বাসায় ব্যবহার উপযোগী জুতা কিনতে পারেন। ঘরের মেঝেতেও কার্পেট অথবা মোটা কাপড় বিছিয়ে দিতে পারেন। তাহলে মেঝেতে বসে খেলা করলেও ঠাণ্ডা লাগবে না। শিশুর কাপড় ঘরে না শুকিয়ে রোদে শুকাবেন। এছাড়া শিশুর বিছানা-বালিশ প্রতিদিন রোদে গরম করে নিলে শিশু আরাম বোধ করবে। এ সময় শিশুরা বারবার ন্যাপি ভিজিয়ে ফেলে। ন্যাপি বার বার পাল্টে দিতে হবে। তা না হলে নবজাতকের ঠাণ্ডা লেগে নিউমোনিয়া অথবা মামস হয়ে যেতে পারে। শীতে শুষ্ক আবহাওয়ায় ধুলোবালি বেশি থাকে। খেয়াল রাখতে হবে শিশুর গায়ে যেন ধুলোবালি না লাগে এবং কাপড় চোপড়ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

শিশুর যত্নের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। তা হলো শিশুর ত্বক শুষ্ক হতে দেয়া যাবে না। দিনে দুই-তিনবার বেবি অয়েল বা ভ্যাসলিন দিতে হবে। সকাল-বিকাল কানঢাকা টুপি ও হালকা শীতের কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে। রাতে ডায়াপার পরিয়ে শোয়াতে হবে। শিশুর নাক-মুখ যেন লেপ, কম্বল দিয়ে ঢেকে না যায় তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

Related Topics

গরমে ত্বকের যত্ন

শীতে এবং গরমে একই ভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায় না। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে শীতে যে ধরনের রূপচর্চা করা যায়, গরমে তা করা যায় না। গরমে ত্বকের যত্ন নেবেন কী ভাবে? রইল কয়েকটি পরামর্শ। গরমে ত্বকের যত্ন সাবান বদল: শীতে মুখে ধোওয়ার জন্য যে সাবান বা ফেস ওয়াশ ব্যবহার করতেন, গরমে তা করবেন না। কারণ গরমে […]

লকডাউন এর আওতামুক্ত থাকবে যা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আগামী ১৪ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সেইসঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে। তবে বেশ কয়েক ধরনের প্রতিষ্ঠান ও পরিষেবা নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। Lockdown […]

পেটের গ্যাস দূর করার সহজ উপায়

যারা ভোগেন কেবল তারাই বোঝেন এটি কত যন্ত্রণার। একটু ভাজাপোড়া অথবা দাওয়াত, পার্টিতে মসলাযু্ক্ত খাবার খেলে তো শুরু হয়ে যায় অস্বস্তিকর গ্যাসের সমস্যা। ফাস্ট ফুড, ব্যস্ত জীবনযাত্রার যুগে গ্যাস, পেটের অসুখ এখন ঘরোয়া রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো বাসায় গেলেই গ্যাস্ট্রিকের ১ পাতা ওষুধ অবশ্যই পাওয়া যায়। তবে কী গাদা গাদা গ্যাসের ওষুধে এ সমস্যা দূর […]

করোনা সহায়তা ও হেল্পলাইন

বাংলাদেশের সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি , সার্বিক করোনা পরিস্থিতি ,গুরুত্বপূর্ণ আপডেটেড তথ্য, করোনা সংক্রান্ত যেকোনো পরামর্শ ও সহযোগীতা পেতে প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর। Corona Help প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর প্রতিষ্ঠান হটলাইন নম্বর স্বাস্থ্য বাতায়ন – স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৬২৬৩ এটুআই প্রোগ্রাম, আইসিটি ডিভিশন ৩৩৩ ওভাই সলিউশন্স লিমিটেড ১৬৬৩৩+৮৮ ০১৩১৩০৩৭৫৪৬ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১০৬৫৫+৮৮০ ১৯৪৪৩৩৩২২২+৮৮০ ১৯৩৭০০০০১১+৮৮০ ১৯৩৭১১০০১১+৮৮০ […]

করোনার টিকা নিবন্ধন

বাংলাদেশে রবিবার ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শুরুতেই সম্মুখ সারির কর্মী এবং ৪০ বছরের বেশি নাগরিকদের টিকা দেয়া হবে। corona vaccination registration এই বয়স সীমা আগে ৫৫ বছর নির্ধারণ করা হলেও সেটি আবার কমিয়ে আনা হয়েছে। ৪০ বছরের বেশি বয়সীরা যে কোন সরকারি হাসপাতালে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন। […]

শীতে শিশুর যত্নে করণীয়