বর্তমান সময়ে ওষুধের দোকান বা ফার্মেসির ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত। এই ব্যবসা শুরু করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো যথাযথ লাইসেন্স প্রাপ্তি, যা সাধারণত ড্রাগ লাইসেন্স নামেই পরিচিত। ফার্মেসি ব্যবসার ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে, এই লাইসেন্স প্রাপ্তি কেবল একটি আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপও বটে। ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ফার্মেসি পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, এবং এটি ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই, যারা এই লাভজনক ব্যবসায় নিজেদের নিয়োজিত করতে চান, তাদের জন্য ড্রাগ লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক।
Drug license
ওষুধের দোকান বা ফার্মেসী খুলে বৈধভাবে ওষুধের ব্যবসা করতে চাইলে ড্রাগ লাইসেন্স নেয়া জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ঔষধ প্রশাসনের কাছ থেকে ড্রাগ লাইসেন্স নিতে হয়।
Drug license কী?
ড্রাগ লাইসেন্স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুমতিপত্র, যা ওষুধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। এই লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ওষুধ বিক্রি, মজুদকরণ, বিতরণ অথবা উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না, কারণ এটি সম্পূর্ণ অবৈধ বলে বিবেচিত হয়। মূলত, এই লাইসেন্সটি ওষুধের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।এই অত্যাবশ্যকীয় লাইসেন্স প্রদান এবং এর সকল কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর (Directorate General of Drug Administration – DGDA)। DGDA একটি সরকারি সংস্থা যা দেশের ঔষধ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাদের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ওষুধের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে কঠোর নজরদারি রাখা, যাতে নকল, ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধ বাজারে প্রবেশ করতে না পারে। ড্রাগ লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে DGDA নিশ্চিত করে যে, যারা ওষুধ ব্যবসার সাথে জড়িত, তারা সরকার নির্ধারিত সকল নিয়মকানুন, মানদণ্ড এবং আইন মেনে চলছে। এটি শুধুমাত্র ব্যবসায়িক বৈধতাই দেয় না, বরং এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের অঙ্গীকারেরও একটি প্রতিফলন।
নিচে ড্রাগ লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি, ইউনিক ওয়ার্ডপ্রেস পোস্ট দেওয়া হলো। আপনি সরাসরি এটি কপি করে আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে পারবেন।
Drug license এর আবেদন বিস্তারিত
ঔষধ প্রশাসনের নির্ধারিত ফরম এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয় ড্রাগ লাইসেন্স এর জন্য। আর সাথে জমা দিতে হয় কিছু কাগজপত্র। চলুন জেনে নিই কি কি কাগজপত্র আপনাকে জমা দিতে হবে সে সম্পর্কে।
ফার্মাসিস্টের সনদের জন্য ফার্মেসী কাউন্সিল থেকে আপনাকে ছয় মাস মেয়াদী একটি কোর্স করতে হবে। প্রতি তিন মাস পর পর ঔষধ প্রশাসনের সভা হয়, যেখানে তথ্যগুলো যাচাই বাছাই সাপেক্ষে লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশে ফার্মেসি, ওষুধের ব্যবসা বা ওষুধ উৎপাদন করতে হলে আইন অনুযায়ী ড্রাগ লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। অনেকেই ড্রাগ লাইসেন্স কীভাবে নিতে হয়, কী কী কাগজপত্র লাগে এবং কত সময় লাগে—এসব নিয়ে বিভ্রান্ত থাকেন। এই পোস্টে আমরা ড্রাগ লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছি।
Drug license এর ধরন
বাংলাদেশে মূলত দুটি ধরনের ড্রাগ লাইসেন্স দেওয়া হয়—
১. খুচরা বিক্রয় লাইসেন্স (Retail Drug License)
ফার্মেসি বা ওষুধের দোকানের জন্য।
২. পাইকারি লাইসেন্স (Wholesale Drug License)
ওষুধ সরবরাহ, ডিস্ট্রিবিউশন বা গুদামজাতের জন্য।
Drug license পেতে যে কাগজপত্র প্রয়োজন
নিচের নথিপত্র প্রস্তুত রাখুন—
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- টিন সার্টিফিকেট (TIN)
- দোকান/স্থানীয় কাগজপত্র (হোল্ডিং নম্বর, ট্রেড লাইসেন্স)
- ভাড়ার চুক্তিপত্র / মালিকানার কাগজ
- ছবি– ২ কপি
- স্যানিটারি সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য হলে)
- টেকনিক্যাল কর্মীর ডিপ্লোমা/স্যাকমো/ফার্মেসি সার্টিফিকেট
- অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের তালিকা
- দোকানের নকশা/লেআউট প্ল্যান
ড্রাগ লাইসেন্স আবেদন প্রক্রিয়া
ধাপ–১: অনলাইন রেজিস্ট্রেশন (DGDA Portal)
১. https://dgda.gov.bd ওয়েবসাইটে যান
২. “Drug License Application” অপশনে ক্লিক করুন
৩. নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন
৪. প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে প্রোফাইল সম্পন্ন করুন
ধাপ–২: আবেদন ফর্ম পূরণ
- আবেদনকারীর নাম
- দোকানের ঠিকানা
- মালিকানা/ভাড়ার তথ্য
- টেকনিক্যাল পারসনের তথ্য
- প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড
সবশেষে “Submit” ক্লিক করুন।
ধাপ–৩: সরকার নির্ধারিত ফি প্রদান
ড্রাগ লাইসেন্সের সরকারি ফি সাধারণত—
- খুচরা বিক্রয় লাইসেন্স: ৩,০০০ টাকা
- পাইকারি লাইসেন্স: ৬,০০০ টাকা
ফি জমা দিতে পারেন:
✔ সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায়
✔ অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে (যদি সক্রিয় থাকে)
ধাপ–৪: পরিদর্শন (Inspection)
আপনার দোকানে DGDA প্রতিনিধি এসে পরিদর্শন করবে—
- ফ্রিজ আছে কি না
- ওষুধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা
- পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা
- সঠিক লেআউট
- অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম
- লাইসেন্স প্রদর্শনের জায়গা
সঠিক থাকলে রিপোর্ট অনুমোদন পাবেন।
ধাপ–৫: লাইসেন্স ইস্যু
সব ধাপ সম্পন্ন হলে আপনার ড্রাগ লাইসেন্স অনুমোদিত হবে।
আপনি চাইলে অনলাইন থেকেও লাইসেন্স ডাউনলোড করতে পারবেন।
ড্রাগ লাইসেন্স পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত—
১৫–৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স পাওয়া যায়।
তবে নথিপত্র সমস্যায় সময় বেশি লাগতে পারে।
ড্রাগ লাইসেন্স পেতে গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- দোকানের নকশা অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে
- ভুল তথ্য জমা দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে
- টেকনিক্যাল পারসন অবশ্যই স্বীকৃত সার্টিফিকেটধারী হতে হবে
- পরিদর্শনের আগে দোকান ভালোভাবে সাজিয়ে রাখুন
ড্রাগ লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ ও অনলাইন-ব্যবস্থাপনা নির্ভর। সঠিক কাগজপত্র ও নিয়ম অনুসরণ করলে যে কেউ সহজেই ফার্মেসি বা ওষুধ বিক্রয়ের বৈধ অনুমতি পেতে পারেন।
Discover more from CAREERBD
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
আমি ও নিতে চাই