একজন লাইব্রেরিয়ান এর দায়দায়িত্ব

একজন লাইব্রেরিয়ান প্রধান কাজ হলো লাইব্রেরির তত্বাবধান করা। তাছাড়া বই সংগ্রহ, বিশেষ ক্রম অনুযায়ী সেগুলোকে সাজানো থেকে শুরু করে নতুন জার্নাল বা বই কেনা ও কর্মশালা পরিচালনা ইত্যাদি কাজ করে থাকেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সংস্থায় কাজের সুযোগ রয়েছে এ পেশায়।

Librarian jobs

একজন লাইব্রেরিয়ানের কাজ কী?

-বই, জার্নাল ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা
-ই-লাইব্রেরির জন্য অনলাইনে বই ও জার্নাল সংরক্ষণ করা
-বইয়ের তালিকা বানানো
-বইয়ের তালিকা হালনাগাদ করা
-পাঠকের চাহিদা সম্পর্কে জানা ও প্রয়োজনীয় বই বা পত্রিকা সংগ্রহ করে দেয়া
-লাইব্রেরির বই ও জার্নাল পাঠকরা কীভাবে ব্যবহার করছে, তার রেকর্ড রাখা
-লাইব্রেরিতে গবেষণার পরিবেশ তৈরি করা
-লাইব্রেরির জন্য বার্ষিক বাজেট বানানো
-কর্মশালা আয়োজন করা

একজন লাইব্রেরিয়ানের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ একজন লাইব্রেরিয়ান হতে হলে আপনাকে অবশ্যই আগে স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে ইনফরমেশন সায়েন্স ও লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হতে হবে।

অভিজ্ঞতাঃ এ পেশায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য রয়েছে। বিশেষ করে বড় প্রতিষ্ঠানের বেলায় ২-৩ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে আসে।

দক্ষতা:

-লাইব্রেরির বই, জার্নাল ও ডকুমেন্টকে সঠিক ক্যাটাগরিতে ভাগ করা
-ক্যাটালগিং পদ্ধতিতে লাইব্রেরির বই, জার্নাল ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সাজানোর দক্ষতা
-লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনার কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহারের দক্ষতা
-রেফারেন্সের উপর পরিষ্কার ধারণা থাকা

কোথায় পড়বেন লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপার্টমেন্ট অফ ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট চার বছর মেয়াদি অনার্স, এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ও তিন বছর মেয়াদি পিএইচডি ডিগ্রি দেয়া হয়।

আরো কিছু সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটে অনার্সসহ বিভিন্ন মেয়াদের ডিপ্লোমা ডিগ্রি ও সার্টিফিকেট কোর্সে সনদ দেয়া হয়। যেমনঃ

ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অফ চিটাগং (USTC)
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অফ ঢাকা
ইন্সটিটিউট ফর লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স (ILIS),নীলক্ষেত, ঢাকা

ক্যারিয়ার হিসেবে লাইব্রেরিয়ান ?

প্রতিষ্ঠান ভেদে একজন লাইব্রেরিয়ানের মাসিক আয় ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে সাধারণত লাইব্রেরি সহকারী হিসেবে মাসিক ২০,০০০ টাকায় নিয়োগ দেয়া হয়। অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতার সাথে সাথে আয় বেড়ে থাকে।

যেহেতু আমাদের দেশে লাইব্রেরি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখনো কম, তাই লাইব্রেরিয়ানের সংখ্যাও অনেক সীমিত। সাধারণত সহকারী লাইব্রেরিয়ান হিসাবে আপনার ক্যারিয়ার শুরু হবে। ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ধাপে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান লাইব্রেরিয়ান হিসাবে নিয়োগ পেতে পারেন।

আধুনিক সময়ে লাইব্রেরির কার্যক্রমের পরিসর বেড়েছে। এ কাজ এখন শুধু কাগজের বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনেক লাইব্রেরিই ডিজিলাটাইজড হয়ে যাচ্ছে। এদের ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ লাইব্রেরিয়ান প্রয়োজন। জ্ঞানভিত্তিক কাজের পরিবেশ খুঁজে থাকলে লাইব্রেরি হতে পারে আপনার আদর্শ ক্যারিয়ার গড়ার জায়গা।

Leave a Reply...