ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা শুরু করতে চাইলে সরকারি নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। বিমান টিকিট বুকিং, হোটেল রিজার্ভেশন, দেশি-বিদেশি ভ্রমণসেবা এবং বিভিন্ন ট্রাভেল-সংক্রান্ত সুবিধা প্রদানের জন্য আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সি হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়।
Travel Agency Registration
বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সির রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার নিয়ম ২০২৬: আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও খরচ
বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন প্রদান করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে অনলাইনে Travel Agency Management System (TAMS)-এর মাধ্যমে নিবন্ধনের আবেদন করা যায়।
এই পোস্টে বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সির রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি, অনলাইন আবেদন পদ্ধতি এবং নবায়নের নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের আইন
বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রধানত নিচের আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করতে হয়।
১. বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩।
২. বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইন, ২০২১।
৩. বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি একটি সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ আইন তথ্যভান্ডারের তথ্য অনুযায়ী অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা পরবর্তীতে লোপ পেয়েছে। তাই এর প্রস্তাবিত নতুন শর্তগুলোকে বর্তমানে কার্যকর আইন হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
ট্রাভেল এজেন্সির রেজিস্ট্রেশন কোথা থেকে নিতে হবে?
বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত অনলাইন সিস্টেমে।
আবেদনের ওয়েবসাইট:
https://regtravelagency.gov.bd
এই ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নতুন নিবন্ধন, নবায়ন এবং অন্যান্য নিবন্ধন-সংক্রান্ত সেবার জন্য আবেদন করা যায়।
ট্রাভেল এজেন্সি রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নতুন ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে নিতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো হলো:
| ক্রম | প্রয়োজনীয় কাগজপত্র |
|---|---|
| ১ | এজেন্সির স্বত্বাধিকারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অংশীদারদের ছবি |
| ২ | পূরণকৃত আবেদন ফরম |
| ৩ | আবেদন ফি জমার ট্রেজারি চালানের মূল কপি |
| ৪ | হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি |
| ৫ | টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট |
| ৬ | ব্যবসায়িক ঠিকানার প্রমাণপত্র |
| ৭ | অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র অথবা মালিকানার প্রমাণপত্র |
| ৮ | হলফনামা |
| ৯ | ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা স্থিতির ব্যাংক সার্টিফিকেট |
| ১০ | পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট |
| ১১ | এজেন্সির অফিসের ছবি |
| ১২ | স্বত্বাধিকারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অংশীদারদের স্বাক্ষর |
কোম্পানি হলে অতিরিক্ত কাগজপত্র:
- মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MOA)।
- আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (AOA)।
- সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অংশীদারি চুক্তি বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন-সংক্রান্ত কাগজপত্র।
ব্যবসায়িক ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বাড়ির মালিকানার কাগজ অথবা ভাড়ার চুক্তিপত্র প্রয়োজন হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের চেকলিস্টে ভাড়ার চুক্তিপত্রের নোটারিকৃত কপি এবং নির্ধারিত রাজস্ব স্ট্যাম্পযুক্ত ভাড়া পরিশোধের রসিদের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
ট্রাভেল এজেন্সির হলফনামা কীভাবে তৈরি করবেন?
ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধনের জন্য একটি হলফনামা জমা দিতে হয়।
হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে যে এজেন্সি ভ্রমণসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মিথ্যা প্রলোভন কিংবা প্রতারণার আশ্রয় নেবে না।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত চেকলিস্টে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামার কথা উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামা প্রস্তুত করার সময় আইনজীবী বা নোটারি পাবলিকের সহায়তা নিতে পারেন।
ট্রাভেল এজেন্সি রেজিস্ট্রেশনের জন্য কত টাকা লাগে?
বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফি হলো:
| খরচের বিবরণ | টাকার পরিমাণ |
|---|---|
| আবেদন ফি | ৫,০০০ টাকা |
| নিবন্ধন সনদ ফি | ৫০,০০০ টাকা |
| মোট মূল ফি | ৫৫,০০০ টাকা |
এর সঙ্গে প্রযোজ্য ভ্যাট ও অন্যান্য সরকারি বা ব্যাংক চার্জ যুক্ত হতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আবেদন ফি এবং নিবন্ধন সনদ ফি একসঙ্গে জমা দিতে হয় না। প্রথমে আবেদন ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদনের পর্যায়ে নিবন্ধন সনদের ফি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। টাকা জমা দেওয়ার আগে TAMS পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ চালান ও ফি যাচাই করুন।
এ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার মূলধনের প্রমাণ হিসেবে তফসিলি ব্যাংকে ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা স্থিতির ব্যাংক সার্টিফিকেট প্রয়োজন। এটি নিবন্ধন ফি নয়।
অনলাইনে ট্রাভেল এজেন্সি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম
বর্তমানে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের জন্য অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। আবেদন করার নিয়ম নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।
ধাপ ১: TAMS ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে https://regtravelagency.gov.bd/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
হোমপেজ থেকে Sign Up অপশনে ক্লিক করুন। নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিন।
ধাপ ২: নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন
অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় সাধারণত নিচের তথ্য প্রয়োজন হয়:
- আবেদনকারীর নাম।
- মোবাইল নম্বর।
- ই-মেইল ঠিকানা।
- জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য।
- এজেন্সির নাম।
- ব্যবসায়িক ঠিকানা।
প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন জমা দিন। এরপর ই-মেইলে পাঠানো ভেরিফিকেশন লিংকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করুন।
ধাপ ৩: নতুন এজেন্সির তথ্য প্রদান করুন
অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার পর নতুন এজেন্সির জন্য আবেদন করার অপশন নির্বাচন করুন।
এজেন্সির বাংলা ও ইংরেজি নাম, ব্যবসায়িক ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য প্রদান করুন।
ধাপ ৪: নিবন্ধন আবেদন ফরম পূরণ করুন
ড্যাশবোর্ড থেকে Apply for Registration অপশনে প্রবেশ করুন।
এরপর New Registration নির্বাচন করে আবেদন ফরম পূরণ করুন।
আবেদন ফরমে সাধারণত কয়েকটি অংশ থাকে:
১. ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক তথ্য।
২. স্বত্বাধিকারী, পরিচালক বা অংশীদারদের তথ্য।
৩. কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তথ্য।
৪. ব্যাংক হিসাব এবং ট্রেজারি চালানের তথ্য।
৫. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ছবি সংযুক্তকরণ।
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন।
ধাপ ৫: আবেদন ফি জমা দিন
বিধিমালা অনুযায়ী আবেদন ফি ৫,০০০ টাকা।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ফি জমা দিন। চালানের মূল কপি ও প্রয়োজনীয় তথ্য আবেদনপত্রে সংযুক্ত করুন।
ধাপ ৬: আবেদন যাচাই ও সাবমিট করুন
সব তথ্য পূরণ করার পর Preview অপশনে ক্লিক করে আবেদনটি ভালোভাবে যাচাই করুন।
সবকিছু সঠিক থাকলে Submit করুন।
আবেদন জমা হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করবেন। প্রয়োজনে এজেন্সির অফিস সরেজমিনে পরিদর্শন করা হতে পারে।
ধাপ ৭: নিবন্ধন সনদের ফি জমা দিন
আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে সন্তুষ্ট হলে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন সনদের ফি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেবে।
২০২২ সালের বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধন সনদের ফি ৫০,০০০ টাকা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে চালানের তথ্য পোর্টালে আপলোড বা দাখিল করতে হবে।
ধাপ ৮: নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করুন
আবেদন অনুমোদিত হলে TAMS পোর্টাল থেকে নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
সনদটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন এবং অফিসে দৃশ্যমান স্থানে রাখুন।
ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদের মেয়াদ কত দিন?
বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ৩ বছর।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্ধারিত নিয়মে নবায়নের আবেদন করতে হবে।
ট্রাভেল এজেন্সি রেজিস্ট্রেশন নবায়নের নিয়ম
নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৬০ দিন আগে নবায়নের আবেদন করতে হয়।
নবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়োজন হয়:
১. পূর্বের নিবন্ধন সনদের কপি।
২. হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।
৩. টিআইএন সার্টিফিকেট।
৪. আবেদন ফি জমার ট্রেজারি চালান।
৫. গত তিন বছরে কমপক্ষে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিমান টিকিট বিক্রির প্রমাণ।
৬. কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তালিকা।
৭. লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন।
৮. অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
নবায়নের ফি ও অন্যান্য শর্তের জন্য ২০২২ সালের বিধিমালা এবং মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা শুরু করার আগে যেসব বিষয় জানা প্রয়োজন
ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা শুরু করার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত।
১. ব্যবসার ধরন নির্বাচন: আপনি শুধু বিমান টিকিট বিক্রি করবেন, নাকি হোটেল বুকিং, ট্যুর প্যাকেজ ও অন্যান্য ভ্রমণসেবা প্রদান করবেন, তা নির্ধারণ করুন।
২. ব্যবসায়িক অফিস: গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় অফিস ব্যবস্থাপনা রাখুন।
৩. ব্যাংক হিসাব: ব্যবসার জন্য ব্যাংক হিসাব খুলুন এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় রাখুন।
৪. গ্রাহকসেবা: টিকিট বুকিং, বাতিল, রিফান্ড এবং ভ্রমণসংক্রান্ত শর্তাবলি গ্রাহকদের পরিষ্কারভাবে জানান।
৫. বৈধতা: নিবন্ধন সনদ ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সির কার্যক্রম পরিচালনা করবেন না।
৬. আলাদা ট্যুর অপারেটর নিবন্ধন: নিজস্ব ট্যুর প্যাকেজ পরিচালনা করে ট্যুর অপারেটর হিসেবে ব্যবসা করতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অধীনে পৃথক নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করুন। ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন ও ট্যুর অপারেটরের নিবন্ধন এক বিষয় নয়।
ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি লিংক
নিবন্ধনের আগে নিচের সরকারি ওয়েবসাইটগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করুন।
- ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন পোর্টাল: https://regtravelagency.gov.bd/
- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়: https://mocat.gov.bd/
- ট্রাভেল এজেন্সি আইন ও বিধিমালা: https://mocat.gov.bd/pages/static-pages/694032a035ce18e1c055f9a3
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা: https://mocat.gov.bd/pages/static-pages/694032a135ce18e1c055fa99
- বাংলাদেশ আইন তথ্যভান্ডার: https://bdlaws.minlaw.gov.bd/
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন কোথা থেকে নিতে হয়?
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (TAMS) থেকে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
২. ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধনের আবেদন ফি কত?
২০২২ সালের বিধিমালা অনুযায়ী আবেদন ফি ৫,০০০ টাকা এবং নিবন্ধন সনদ ফি ৫০,০০০ টাকা। প্রযোজ্য ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ অতিরিক্ত হতে পারে।
৩. ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধনের জন্য কত টাকা ব্যাংকে থাকতে হয়?
২০২২ সালের বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় মূলধন হিসেবে তফসিলি ব্যাংকে ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা স্থিতির ব্যাংক সার্টিফিকেট প্রয়োজন।
৪. ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদের মেয়াদ কত বছর?
নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ৩ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী নবায়ন করতে হয়।
৫. ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কি ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন করা যায়?
না। ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধনের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি প্রয়োজন।
৬. অনলাইনে কি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন করা যায়?
হ্যাঁ। TAMS পোর্টালের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অনলাইনে নিবন্ধনের আবেদন করা যায়।

উপসংহার
বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা শুরু করতে হলে প্রথমেই ব্যবসার বৈধ কাঠামো তৈরি, ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ, টিআইএন, ব্যাংক সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে। এরপর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের TAMS পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
সঠিকভাবে আবেদন ও প্রয়োজনীয় ফি জমা দিলে যাচাই-বাছাই শেষে নিবন্ধন সনদ পাওয়া যায়। তাই ব্যবসা শুরু করার আগে সরকারি আইন ও বিধিমালা এবং মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।