ফার্মেসি ব্যবসা করার নিয়ম

ফার্মেসি ব্যবসা করার নিয়ম

বাংলাদেশে একটি লাভজনক ও বৈধ ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক ধাপ অনুসরণ করতে হবে। নিচে ব্যবসার পূর্ণাঙ্গ গাইড দেওয়া হলো:

Pharmacy business

১. ফার্মাসিস্ট কোর্স সম্পন্ন করা (আইনি শর্ত)

  • বৈধভাবে ফার্মেসি পরিচালনা করতে হলে বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে অন্তত ৩ মাস বা ৬ মাস মেয়াদী ‘সি’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
  • এই কোর্সের সার্টিফিকেট বা সনদ ছাড়া ড্রাগ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায় না।
  • নিজে কোর্সটি করতে না চাইলে দোকানে এমন একজন সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট বা বিক্রয়কর্মী রাখতে হবে যার সার্টিফিকেট রয়েছে।

২. ড্রাগ লাইসেন্স সংগ্রহ

  • ফার্মেসি ব্যবসার প্রথম ও প্রধান আইনি শর্ত হলো ড্রাগ লাইসেন্স। লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফার্মাসিস্টের সনদের কপিসহ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাগ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর-এর ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।

৩. সঠিক লোকেশন নির্বাচন

  • ফার্মেসির ব্যবসার সফলতা অনেকাংশে এর অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।
  • জনবহুল এলাকা, আবাসিক এলাকা, বাজারের মোড় বা হাসপাতালের কাছাকাছি স্থান বেছে নিন।
  • দোকানের আয়তন অন্তত নির্দিষ্ট মাপের এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার উপযোগী হতে হবে।

৪. দোকান সাজানো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম

  • ওষুধের তাক বা শেলফ, ক্যাশ বাক্স ও ফ্রিজ (ইনসুলিন ও কিছু নির্দিষ্ট ড্রাগ সংরক্ষণের জন্য) সংগ্রহ করুন।
  • ওষুধ সংরক্ষণের জন্য আলো-বাতাস ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

৫. ওষুধ সংগ্রহ ও মূলধন পরিকল্পনা

  • প্রাথমিক পর্যায়ে পাইকারি ওষুধের বাজার থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি, ব্যথা, অ্যান্টিবায়োটিক, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও বিভিন্ন ভিটামিনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে হবে।
  • বড় পরিসরে শুরু করলে সরাসরি ওষুধ কোম্পানির ডিলার বা প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করে স্টক বাড়াতে পারেন।
  • ব্যবসার আকার অনুযায়ী উপযুক্ত মূলধন বা বিনিয়োগ প্রস্তুত রাখুন।

Similar Posts

Leave a Reply