DV Lottery – আবেদনপদ্ধতি ও সম্পূর্ণ গাইড
ডিভি লটারি (DV Lottery) হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিবাসন ভিসা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী কিছু দেশের নাগরিকেরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য Diversity Visa পাওয়ার সুযোগ পান। অনেকেই এই কর্মসূচিকে আমেরিকার গ্রিন কার্ড লটারি নামেও চেনেন।
DV Lottery
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশিরা কি ডিভি লটারিতে আবেদন করতে পারবেন? আবেদন করতে কী কী যোগ্যতা লাগে? আবেদন কি বিনামূল্যে করা যায়? নির্বাচিত হলেই কি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নিশ্চিত?
ডিভি লটারি কী? বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন? যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি ও সম্পূর্ণ গাইড
এই নিবন্ধে ডিভি লটারি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, বাংলাদেশিদের যোগ্যতা, শিক্ষাগত ও পেশাগত শর্ত, আবেদন করার নিয়ম, ফলাফল যাচাই এবং প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় সহজ বাংলায় তুলে ধরা হয়েছে।
ডিভি লটারি কী?
ডিভি লটারির পূর্ণরূপ হলো Diversity Visa Lottery। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (U.S. Department of State) পরিচালিত একটি অভিবাসন কর্মসূচি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসন ঘটে এমন দেশগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করা।
এই কর্মসূচিতে প্রতিবছর নির্দিষ্টসংখ্যক Diversity Immigrant Visa বরাদ্দ করা হয়। প্রচলিত নিয়মে বছরে সর্বোচ্চ ৫৫,০০০ ভিসার কথা বলা হলেও আইনগত সীমা ও অন্যান্য বিধানের কারণে প্রকৃত বরাদ্দ কম হতে পারে।
ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হয়ে এবং পরবর্তী সব শর্ত পূরণ করে ভিসা পেলে একজন আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।
ডিভি লটারির প্রধান সুবিধা
- যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী অভিবাসনের সুযোগ।
- সাধারণত প্রাথমিক অনলাইন এন্ট্রি জমা দিতে কোনো ফি লাগে না।
- যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত ২১ বছরের কম বয়সী যোগ্য সন্তানরাও নির্দিষ্ট শর্তে সঙ্গে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
- ভিসা পেলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও আইন অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়।
তবে মনে রাখতে হবে, ডিভি লটারি কোনো চাকরির ভিসা নয় এবং এতে আবেদন করলেই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হয় না।
বাংলাদেশিরা কি ডিভি লটারিতে আবেদন করতে পারবেন?
সংক্ষিপ্ত উত্তর: ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরা সাধারণ নিয়মে আবেদন করার যোগ্য ছিলেন না। ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি কর্মসূচিতে যোগ্যতা সাধারণত আবেদনকারীর নাগরিকত্বের পরিবর্তে তাঁর জন্মদেশের (country of chargeability) ওপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট বছরের নির্দেশনায় যেসব দেশকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়, সেসব দেশের অধিবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যতিক্রম প্রযোজ্য না হলে আবেদন করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ডিভি-২০২৬ নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় ছিল।
সরকারি তথ্যসূত্র: https://travel.state.gov/content/travel/en/us-visas/immigrate/diversity-visa-program-entry/dv-2026-selected-entrants.html
ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন সময়সূচি ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা প্রকাশিত হলে বাংলাদেশের যোগ্যতা নতুন করে যাচাই করতে হবে। আগের বছরের নিয়ম দেখে পরবর্তী বছরের যোগ্যতা নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করলেও কখনো কি সুযোগ থাকতে পারে?
কিছু ক্ষেত্রে ডিভি কর্মসূচির country of chargeability সংক্রান্ত নিয়মের কারণে ব্যতিক্রম সম্ভব হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ:
১. স্বামী বা স্ত্রীর জন্মদেশের ভিত্তিতে: আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী যদি যোগ্য কোনো দেশে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, তাহলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সেই দেশের যোগ্যতা ব্যবহার করার সুযোগ থাকতে পারে।
২. বাবা-মায়ের জন্মদেশের ভিত্তিতে: কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আবেদনকারীর বাবা-মায়ের জন্মদেশের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
এসব ব্যতিক্রম স্বয়ংক্রিয় নয়। আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের জন্মস্থান, বসবাসের পরিস্থিতি এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করতে হবে।
ডিভি লটারিতে আবেদন করার যোগ্যতা
যে বছরের কর্মসূচিতে কোনো ব্যক্তি আবেদন করার জন্য যোগ্য, তাঁকে সাধারণত নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হয়।
১. যোগ্য দেশের শর্ত
প্রথমেই দেখতে হবে, সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীর জন্মদেশ ডিভি কর্মসূচির জন্য যোগ্য কি না। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই যাচাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
২. শিক্ষাগত যোগ্যতা
প্রধান আবেদনকারীকে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের ১২ বছরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রমাণ দিতে হয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী করা হয়। শুধু কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজনীয় শিক্ষাক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার শর্ত পূরণ করতে হবে।
৩. কাজের অভিজ্ঞতার বিকল্প
প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলে কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পেশায় কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যোগ্য হওয়া সম্ভব হতে পারে।
সাধারণভাবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত দুই বছরের যোগ্যতাসম্পন্ন কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। তবে সব পেশার অভিজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের নির্ধারিত পেশাগত মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত প্রধান আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য। স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের একই শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হয় না।
ডিভি লটারিতে আবেদন করতে কী কী তথ্য লাগে?
নিবন্ধনের সময় সরকারি ফরমে সাধারণত নিচের তথ্যগুলো চাওয়া হয়:
- পূর্ণ নাম, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী।
- জন্মতারিখ ও জন্মস্থান।
- যোগ্যতার জন্য ব্যবহৃত জন্মদেশ।
- ডাকযোগে যোগাযোগের ঠিকানা।
- ইমেইল ঠিকানা।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা।
- বৈবাহিক অবস্থা।
- স্বামী বা স্ত্রী এবং প্রযোজ্য সন্তানদের তথ্য।
- নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সাম্প্রতিক ছবি।
ছবি এবং পারিবারিক তথ্যের ক্ষেত্রে ভুল করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ফরম পূরণের আগে সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হবে।
ডিভি লটারিতে অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম
নিবন্ধন চালু থাকলে আবেদন সাধারণত অনলাইনে করতে হয়। প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো।
ধাপ ১: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
ডিভি কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইট:
শুধু নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়ে আবেদন জমা দেওয়া যায়। নিবন্ধনের সময় শেষ হয়ে গেলে নতুন আবেদন জমা দেওয়া যায় না।
ধাপ ২: সরকারি নির্দেশনা পড়ুন
আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের নির্দেশনা থেকে যোগ্য দেশ, ছবির নিয়ম, পারিবারিক তথ্য এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করুন।
ধাপ ৩: আবেদন ফরম পূরণ করুন
নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে লিখুন। পাসপোর্ট বা অন্য নথিতে থাকা তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখুন, যেখানে প্রযোজ্য।
ধাপ ৪: নির্ধারিত ছবি আপলোড করুন
ছবি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নিয়ম মেনে তৈরি হতে হবে। অন্য কারও ছবি, সম্পাদিত ছবি বা পুরোনো ছবি ব্যবহার করলে অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ধাপ ৫: পরিবারের সদস্যদের তথ্য দিন
নির্দেশনা অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী এবং প্রযোজ্য সব সন্তানের তথ্য সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করুন। তথ্য গোপন করা বা বাদ দেওয়া গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ধাপ ৬: আবেদন জমা দিন
সব তথ্য যাচাই করে আবেদন জমা দিন। সফলভাবে জমা হলে একটি confirmation number দেওয়া হয়।
এই কনফার্মেশন নম্বরটি অবশ্যই সংরক্ষণ করুন। পরবর্তীতে আবেদন নির্বাচিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে এটি প্রয়োজন হবে।
সরকারি আবেদনপদ্ধতির তথ্য: https://travel.state.gov/content/travel/en/us-visas/immigrate/diversity-visa-program-entry/diversity-visa-submit-entry1.html
ডিভি লটারিতে আবেদন করতে কি টাকা লাগে?
ডিভি লটারির প্রাথমিক অনলাইন এন্ট্রি জমা দেওয়া সরকারি নিয়মে বিনামূল্যে।
তবে নির্বাচিত হওয়ার পর ভিসা আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, মেডিকেল পরীক্ষা, ভ্রমণ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ হতে পারে। এসব খরচ পরিস্থিতি ও সময় অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি নিশ্চিতভাবে ডিভি লটারিতে নির্বাচিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় অথবা প্রাথমিক এন্ট্রির জন্য সরকারি ফি দাবি করে, তাহলে সতর্ক থাকুন।
ডিভি লটারির ফলাফল কীভাবে দেখবেন?
ডিভি লটারির ফলাফল যাচাই করতে সরকারি Entry Status Check ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়।
ফলাফল দেখার নিয়ম:
১. https://dvprogram.state.gov/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. Entry Status Check বিভাগে যান।
৩. নিজের confirmation number লিখুন।
৪. প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিন।
৫. নির্দেশনা অনুসরণ করে ফলাফল দেখুন।
কেউ নির্বাচিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ওয়েবসাইটই ব্যবহার করা উচিত। শুধু ইমেইল, ফোনকল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
নির্বাচিত হলেই কি গ্রিন কার্ড নিশ্চিত?
না। ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়।
নির্বাচিত হওয়ার পরও আবেদনকারীকে যোগ্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় অভিবাসন ফরম, কাগজপত্র, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হয়। ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা ও সরকারি সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ।
সব শর্ত পূরণ করে ভিসা অনুমোদিত হলেই কেবল ডিভি কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সুযোগ তৈরি হয়।
ডিভি লটারি নিয়ে প্রতারণা থেকে বাঁচবেন কীভাবে?
ডিভি লটারিকে ঘিরে অনেক ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেইল এবং দালালচক্র সক্রিয় থাকে। নিরাপদ থাকতে নিচের বিষয়গুলো মনে রাখুন:
- সরকারি ওয়েবসাইটের ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন।
- নিশ্চিতভাবে নির্বাচিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করবেন না।
- নিজের confirmation number নিরাপদে রাখুন।
- অচেনা ব্যক্তির কাছে পাসপোর্ট, ব্যক্তিগত নথি বা সংবেদনশীল তথ্য পাঠানোর আগে সতর্ক হোন।
- ফলাফল যাচাইয়ের জন্য সরকারি Entry Status Check ব্যবহার করুন।
- ভুয়া পুরস্কার, অগ্রিম টাকা দাবি এবং সন্দেহজনক ইমেইল থেকে সাবধান থাকুন।
সরকারি প্রতারণা-সতর্কতা: https://travel.state.gov/content/travel/en/us-visas/visa-information-resources/fraud.html
ডিভি-২০২৭ সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য কোথায় পাবেন?
ডিভি কর্মসূচির নিবন্ধন তারিখ, যোগ্য দেশের তালিকা, ছবির নিয়ম এবং অন্যান্য শর্ত বছরভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো ব্লগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইট অনুসরণ করুন।
বিশেষ করে ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে নিবন্ধন শুরু হওয়ার তারিখ এবং বাংলাদেশের যোগ্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
সরকারি তথ্যের জন্য ভিজিট করুন:
- ডিভি কর্মসূচি: https://travel.state.gov/content/travel/en/us-visas/immigrate/diversity-visa-program-entry.html
- অনলাইন এন্ট্রি ও ফলাফল যাচাই: https://dvprogram.state.gov/

ডিভি লটারি সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশিরা কি ডিভি লটারিতে আবেদন করতে পারবেন?
উত্তর: ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ অযোগ্য দেশের তালিকায় ছিল। ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরের চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশনা দেখে যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জন্মদেশভিত্তিক ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রশ্ন ২: ডিভি লটারিতে আবেদন করতে কত টাকা লাগে?
উত্তর: প্রাথমিক অনলাইন এন্ট্রি বিনামূল্যে। নির্বাচিত হওয়ার পর ভিসা আবেদন ও অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ হতে পারে।
প্রশ্ন ৩: ডিভি লটারিতে আবেদন করতে কি পাসপোর্ট লাগে?
উত্তর: পাসপোর্ট-সংক্রান্ত শর্ত সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করতে হবে। পুরোনো নিয়মকে বর্তমান নিয়ম ধরে নেওয়া উচিত নয়।
প্রশ্ন ৪: ডিভি লটারিতে কতবার আবেদন করা যায়?
উত্তর: একজন ব্যক্তির জন্য একটি নিবন্ধন সময়কালে একটিমাত্র এন্ট্রি জমা দেওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য। একই ব্যক্তির একাধিক এন্ট্রি জমা দিলে অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
প্রশ্ন ৫: ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হলে কি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নিশ্চিত?
উত্তর: না। নির্বাচিত হওয়ার পরও শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা, নথিপত্র, সাক্ষাৎকার, ভিসার প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।
প্রশ্ন ৬: ডিভি লটারির ফলাফল কি ইমেইলে আসে?
উত্তর: নির্বাচিত হওয়ার তথ্য যাচাই করতে সরকারি Entry Status Check ব্যবহার করতে হবে। কোনো ইমেইলকে একমাত্র প্রমাণ হিসেবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
উপসংহার
ডিভি লটারি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের একটি সম্ভাব্য পথ হলেও এর যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি এবং ভিসা পাওয়ার শর্ত সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।
বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো সংশ্লিষ্ট বছরের যোগ্য দেশের তালিকা যাচাই করা। এরপর শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা, ছবি, পারিবারিক তথ্য এবং নিবন্ধনের সময়সীমা সম্পর্কে সরকারি নির্দেশনা পড়তে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হওয়া এবং ভিসা পাওয়া এক বিষয় নয়। সঠিক তথ্যের জন্য সর্বদা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইট অনুসরণ করুন এবং প্রতারণামূলক অফার থেকে দূরে থাকুন।
দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্যের জন্য তৈরি। ডিভি কর্মসূচির নিয়ম ও যোগ্যতা পরিবর্তিত হতে পারে; আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।