আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন উপায়

আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন উপায়

বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আত্মকর্মসংস্থান বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে কাজ করে আয় করার প্রবণতা এখন তরুণ সমাজের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।

Self employment

প্রযুক্তি, ইন্টারনেট ও সরকারি সহায়তার কারণে বাংলাদেশে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

আত্মকর্মসংস্থান কি [Self employment]?

আত্মকর্মসংস্থান বলতে বোঝায়—নিজের উদ্যোগ, দক্ষতা, পুঁজি ও শ্রম ব্যবহার করে নিজেই নিজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। এখানে কেউ অন্যের অধীনে চাকরি না করে স্বাধীনভাবে ব্যবসা, সেবা বা উৎপাদনমূলক কাজে যুক্ত থাকে এবং নিজেই আয়ের উৎস তৈরি করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব

বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, কিন্তু সেই অনুপাতে চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। ফলে বেকারত্ব কমাতে আত্মকর্মসংস্থান একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।

আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে [Self employment]:

  • বেকারত্ব কমে
  • উদ্যোক্তা তৈরি হয়
  • অর্থনীতি শক্তিশালী হয়
  • দারিদ্র্য হ্রাস পায়

সরকারও বর্তমানে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, যুব ঋণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানকে উৎসাহ দিচ্ছে।

বাংলাদেশে আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন উপায়

১. ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন কাজ

বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম হলো ফ্রিল্যান্সিং

ক্ষেত্রসমূহ:

  • গ্রাফিক ডিজাইন
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • কনটেন্ট রাইটিং
  • ভিডিও এডিটিং

আয় সম্ভাবনা:
২০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২–৩ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি।

২. ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা (SME)

অল্প পুঁজি দিয়ে ছোট ব্যবসা শুরু করে আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করা যায়।

উদাহরণ:

  • মুদি দোকান
  • অনলাইন শপ
  • কাপড় বা কসমেটিকস ব্যবসা
  • ফাস্টফুড বা হোমমেড ফুড

বিশেষ সুবিধা:

  • সহজে শুরু করা যায়
  • পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান হয়

৩. কৃষিভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থান

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় এই খাতে আত্মকর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

ক্ষেত্র:

  • সবজি চাষ
  • মাছ চাষ
  • পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম
  • ছাদ বাগান

সম্ভাবনা:
কম খরচে স্থায়ী আয় ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

৪. হস্তশিল্প ও কুটির শিল্প

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য আত্মকর্মসংস্থানের অন্যতম উৎস।

উদাহরণ:

  • নকশিকাঁথা
  • বাঁশ ও বেত শিল্প
  • হাতে তৈরি গহনা
  • পাটজাত পণ্য

বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে এসব পণ্য দেশ-বিদেশে বিক্রি করা সম্ভব।

৫. প্রশিক্ষণ ও সেবা ভিত্তিক কাজ

নিজের দক্ষতা ব্যবহার করে সেবা প্রদান করেও আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তোলা যায়।

উদাহরণ:

  • টিউশনি / কোচিং সেন্টার
  • বিউটি পার্লার
  • ফটোগ্রাফি
  • মোবাইল বা কম্পিউটার সার্ভিসিং

৬. ডিজিটাল কনটেন্ট ও মিডিয়া

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আত্মকর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

ক্ষেত্র:

  • ইউটিউব চ্যানেল
  • ফেসবুক পেজ
  • ব্লগিং
  • পডকাস্ট

ধৈর্য ও নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করলে ভালো আয় সম্ভব।

Self employment বা আত্মকর্মসংস্থানের সুবিধা

  • নিজের সময় অনুযায়ী কাজ
  • স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি
  • আয় বাড়ানোর সুযোগ
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি

Self employment বা আত্মকর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ

  • প্রাথমিক পুঁজি সংকট
  • সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব
  • মার্কেটিং জ্ঞান কম থাকা
  • ধৈর্যের অভাব

তবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

বাংলাদেশের আত্মকর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ফলে ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন শিক্ষা ও আইটি খাতে আত্মকর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, যুব ঋণ এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এই খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

উপসংহার

আত্মকর্মসংস্থান শুধু একজন ব্যক্তির আয়ের উৎস নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের বাস্তবতায় চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করলে আত্মনির্ভরশীলতা ও সফলতা দুটোই অর্জন করা সম্ভব। তাই নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী আত্মকর্মসংস্থানের পথ বেছে নেওয়াই হতে পারে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সঠিক সিদ্ধান্ত।



Discover more from CAREERBD

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Close
JOBSBD
INFOBD
PORTAL
FORUM
Scroll to Top