পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম

পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম

বাংলাদেশী পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম বা অন্যান্য তথ্য ভুল থাকলে বিদেশ যাত্রা, ভিসা আবেদন ও ইমিগ্রেশনে নানা জটিলতা তৈরি হয়। এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো পাসপোর্ট সংশোধন (Passport Correction) করা।

Passport correction

এই পোস্টে আমরা সহজ ভাষায় জানবো পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন প্রক্রিয়া—সবকিছু ধাপে ধাপে।

কখন পাসপোর্ট সংশোধন করা প্রয়োজন?

নিচের যেকোনো ক্ষেত্রে পাসপোর্ট সংশোধন জরুরি—

  • নামের বানান ভুল
  • জন্ম তারিখ ভুল
  • পিতা বা মাতার নাম ভুল
  • লিঙ্গ (Gender) সংশোধন
  • বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন
  • ছবি বা স্বাক্ষর সমস্যা

পাসপোর্ট সংশোধনের ধরন

বাংলাদেশে সাধারণত দুইভাবে পাসপোর্ট সংশোধন করা হয়—

Minor Correction (ছোট সংশোধন)
Major Correction (বড় সংশোধন / তথ্য পরিবর্তন)

বড় সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট ও যাচাই প্রয়োজন হয়।

পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম (স্টেপ বাই স্টেপ)

ধাপ ১: অনলাইনে আবেদন করুন

প্রথমে বাংলাদেশ সরকারের ই-পাসপোর্ট আবেদন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

যা করবেন:

  • “Apply for Re-issue” অপশন নির্বাচন করুন
  • কারণ হিসেবে Correction / Information Change সিলেক্ট করুন
  • প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ফরম পূরণ করুন
  • আবেদন সাবমিট করে Application ID সংগ্রহ করুন

ধাপ ২: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী ডকুমেন্ট ভিন্ন হতে পারে।

সাধারণত যেসব কাগজ লাগে

  • পুরনো পাসপোর্ট (অরিজিনাল + ফটোকপি)
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • অনলাইন আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি

নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত

  • শিক্ষা সনদ (SSC/সমমান)
  • ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এফিডেভিট
  • গেজেট কপি (প্রয়োজনে)

ধাপ ৩: পাসপোর্ট অফিস / দূতাবাসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনি যদি বাংলাদেশে থাকেন:

  • নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে

বিদেশে থাকলে:

  • বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে উপস্থিত হতে হবে

সেখানে যা হবে:

  • বায়োমেট্রিক (ছবি ও আঙুলের ছাপ)
  • ডকুমেন্ট যাচাই
  • প্রয়োজন হলে সাক্ষাৎকার

ধাপ ৪: পাসপোর্ট সংশোধন ফি পরিশোধ

ফি নির্ভর করে—

  • সংশোধনের ধরন
  • সাধারণ / এক্সপ্রেস সার্ভিস

💰 সাধারণত রিইস্যু ফি প্রযোজ্য হয়।

ধাপ ৫: আবেদন ট্র্যাক করুন

Application ID ব্যবহার করে—

  • অনলাইনে আবেদন স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন

সময় লাগতে পারে:

  • সাধারণ: ৩০–৬০ দিন
  • এক্সপ্রেস: ১৫–৩০ দিন

(সংশোধনের ধরন অনুযায়ী সময় বাড়তে পারে)

ধাপ ৬: সংশোধিত পাসপোর্ট সংগ্রহ

পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে—

  • SMS/ইমেইল নোটিফিকেশন আসবে
  • নির্ধারিত তারিখে অফিস বা দূতাবাস থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন
  • পুরনো পাসপোর্ট ক্যানসেল স্ট্যাম্পসহ ফেরত দেওয়া হবে

পাসপোর্ট সংশোধনের সময় সাধারণ ভুল

❌ NID-এর সাথে মিল না রাখা
❌ অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট জমা দেওয়া
❌ ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করা
❌ গেজেট/এফিডেভিট না করা

গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • সব তথ্য অবশ্যই NID অনুযায়ী দিন
  • বড় সংশোধনের আগে প্রয়োজনীয় কাগজ নিশ্চিত করুন
  • অফিসিয়াল নির্দেশনা ছাড়া দালালের আশ্রয় নেবেন না
  • আবেদন করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন

পাসপোর্ট সংশোধন একটি নিয়মতান্ত্রিক ও আইনগত প্রক্রিয়া। সঠিক ডকুমেন্ট ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে খুব সহজেই পাসপোর্ট সংশোধন করা সম্ভব। ভবিষ্যতে ভিসা, ইমিগ্রেশন বা বিদেশ যাত্রায় ঝামেলা এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব ভুল সংশোধন করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Similar Posts

Leave a Reply